বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি এখন মার্কিন অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া। অর্থনৈতিক উৎপাদনের নিরিখে এর আগে স্থানটি ছিল জাপানের। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও ইউএস ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ অর্জন তুলে ধরেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান।
গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ার জিডিপি ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যেখানে জাপানের জিডিপি ৪ লাখ ১ হাজার কোটি ডলার। শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। বর্তমানে বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনীতি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শ্লথ প্রবৃদ্ধির কারণে জাপান তৃতীয় থেকে চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতিতে নেমে আসে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ছিল ২৯ লাখ ১৮ হাজার কোটি ডলার। এরপর চীন ও জার্মানির যথাক্রমে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার কোটি ও ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি ডলার। এতে দেখা যাচ্ছে, তালিকার শীর্ষে থাকা দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতির।
এক বিবৃতিতে গ্যাভিন নিউসম বলেছেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়া শুধু বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না, আমরা বিশ্বের গতি নির্ধারণ করছি। আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। কারণ আমরা মানুষের ওপর বিনিয়োগ করি, টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিই এবং উদ্ভাবনের শক্তিতে বিশ্বাস করি।’
প্রযুক্তি ও বিনোদন শিল্পের রাজধানী ক্যালিফোর্নিয়ায় চার কোটি মানুষের বাস। এছাড়া মার্কিন কৃষি ও শিল্প খাতে অবদান ব্যাপক রয়েছে এ অঙ্গরাজ্যের। দেশটির দুই বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরের অবস্থানও এখানে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বড় হিস্যা রয়েছে।
গভর্নর অফিসের বিবৃতি অনুসারে, ফেডারেল সরকারকে ক্যালিফোর্নিয়া যে পরিমাণ অর্থ পাঠায় তা ফেডারেল তহবিল থেকে অঙ্গরাজ্যটির প্রাপ্ত অর্থের তুলনায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বেশি।
তবে গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক স্বার্থকে বিপন্ন করে তুলছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এ সাফল্য উদযাপন করছি। সঙ্গে এও স্বীকার করছি যে বর্তমান ফেডারেল প্রশাসনের বেপরোয়া শুল্কনীতির কারণে আমাদের অগ্রগতি হুমকির মুখে। ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতি জাতিকে শক্তিশালী করে, তাই এটি অবশ্যই রক্ষা করা উচিত।’
চীনের সঙ্গে সর্বাত্মক বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গভর্নর। সম্প্রতি ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেনও ডেমোক্রেটিক রাজনীতিবিদ ও ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গ্যাভিন নিউসম।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন এ অঙ্গরাজ্যের প্রবৃদ্ধির হার বেশি, ৬ শতাংশ। যেখানে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনের ২ দশমিক ৬ ও জার্মানির ২ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার ছয় বছর পর নতুন এ র্যাংকিং প্রকাশিত হলো।
এদিকে জন্মহার হ্রাস এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি ও সামাজিক চাপে রয়েছে জাপান। দেশটির শ্রমশক্তি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে আর বাড়ছে সামাজিক সেবার খরচ। গত সপ্তাহে আইএমএফ জাপানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে কমিয়ে এনেছে। সংস্থাটির ধারণা, শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারণার চেয়েও ধীরে সুদহার বাড়াবে।